মুরারই, নিজস্ব সংবাদদাতা : আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে মুরারই-১ ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মুরারই-১ ব্লকের বিডিও H.M. Riajul Hoque।
সভায় উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিধায়ক ডা. মোশারফ হোসেন, মুরারই-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিপ্লব শর্মা, সহ-সভাপতি আফতাব আহমেদ, মুরারই থানার আইসি সামসের আলি, ব্লক প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন আধিকারিক অচিন্ত্য মহান্তি, বিএমওএইচ, বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানবৃন্দ, ইমাম ও মুয়াজ্জিনগণ, ঈদগাহ কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।
সভায় সকলের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ-উল-আযহা পালনের আহ্বান জানানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সর্বশেষ নির্দেশিকা অনুযায়ী শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধি এবং পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
বিধায়ক ডা. মোশারফ হোসেন সভায় বলেন, “মুরারই বরাবরই সম্প্রীতির জায়গা। সব ধর্মের মানুষ এখানে মিলেমিশে বসবাস করেন। ঈদ-উল-আযহাও শান্তি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের পরিবেশে পালন হবে বলে আমি আশাবাদী। সকলকে আইন মেনে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে উৎসব পালনের আহ্বান জানাই।”
মুরারই থানার আইসি সামসের আলি বলেন, “কোনো গুজব বা উস্কানিমূলক ঘটনায় কেউ কান দেবেন না। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসন সর্বদা সজাগ রয়েছে। সকলের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
বিডিও H.M. Riajul Hoque তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ঈদ-উল-আযহা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ভ্রাতৃত্ব, সংযম ও মানবতার বার্তা বহন করে। আমাদের সকলের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমেই শান্তিপূর্ণভাবে এই উৎসব পালন সম্ভব। আমরা সবাই যদি একে অপরকে সহযোগিতা করি এবং সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখি, তাহলে মুরারই-১ ব্লক শান্তি ও সৌহার্দ্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।”
তিনি আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা সর্বশেষ নির্দেশিকা, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধি এবং পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ সকলকে ধর্মীয়ভাবে ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মেনে চলতে হবে। নির্ধারিত স্থানেই কুরবানি সম্পন্ন করতে হবে এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর প্রচারে কান না দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য সকলের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।”
সভায় উপস্থিত জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও প্রশাসনকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে ব্লক ও পুলিশ প্রশাসনের তরফে বিশেষ নজরদারি, টহলদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে যাতে সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালন করতে পারেন।
