নিজস্ব সংবাদদাতা, মুরারাই: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ভোটার সচেতনতায় বড়সড় পদক্ষেপ নিল মুরারাই-১ ব্লক প্রশাসন। বুধবার ব্লকের ‘সিস্টেমেটিক ভোটার্স এডুকেশন অ্যান্ড ইলেক্টোরাল পার্টিসিপেশন’ (SVEEP) প্রকল্পের অধীনে একটি বিশেষ কর্মসূচি সফলভাবে আয়োজিত হলো। এই অনুষ্ঠানে মূল আকর্ষণ ছিলেন এলাকার বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) শত শত সদস্যা।
ব্লকের OC SVEEP মলি বারুরীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ ভোটারদের, বিশেষত নারী ভোটারদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত করা এবং তাঁদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা।
সেলফি স্ট্যান্ড ও স্বাক্ষর সংগ্রহে উন্মাদনা
এদিন সচেতনতা প্রচারকে সাধারণ মানুষের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্লক চত্বরে তৈরি করা হয়েছিল একটি বিশেষ “Selfie Stand”। ভোটার কার্ড হাতে বা ভোটদানের বার্তা নিয়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা উৎসাহের সঙ্গে সেখানে ছবি তোলেন। এছাড়া ছিল “Wall of Democracy” বা গণতন্ত্রের প্রাচীর, যেখানে স্বাক্ষর করে আগামী নির্বাচনে নির্ভয়ে ও দায়িত্বের সঙ্গে ভোটদানের অঙ্গীকার করেন উপস্থিত সকলে। রঙিন ব্যানার ও ফ্লেক্সের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের বিভিন্ন তথ্য এবং নির্ভীকভাবে ভোট দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

প্রশাসনের বার্তা
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে OC SVEEP মলি বারুরী বলেন,
> “আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি ভোটার যাতে কোনও ভয় বা প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে স্বাধীনভাবে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা সমাজের প্রতিটি স্তরে সরাসরি যুক্ত থাকেন। তাই তাঁদের মাধ্যমে এই সচেতনতার বার্তা সমাজের গভীরে পৌঁছে দেওয়া অনেক সহজ এবং কার্যকর হবে।”
>
আগামীর লক্ষ্য
ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৬-এর নির্বাচন পর্যন্ত এই ধরনের উদ্ভাবনী কর্মসূচি ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় ধারাবাহিকভাবে চালানো হবে। মূলত ১০০ শতাংশ ভোটদান নিশ্চিত করাই মুরারাই-১ ব্লক প্রশাসনের বর্তমান লক্ষ্য।
প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় নাগরিক মহল। তাঁদের মতে, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের এই বিপুল অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে গ্রামীণ স্তরে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ছে, যা একটি শক্তিশালী ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত।

